বান্দরবানের লামায় ৪ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযানের টিমকে(ম্যাজিষ্ট্রেটসহ যৌথবাহিনী) এক প্রতিরোধেই ইটভাটা মালিকদের ভয় কেটে গেছে। ভয়ে থাকা ৩৭টি ভাটার মালিকরাও তাদের ইটভাটা গুলি এখন চালুর পথে।
পরিবেশ তুমি এখন একা। তুমি আর দাঁড়াতে পারবেনা। তুমি ন্যাড়া হয়ে তাকবে এ অঞ্চলে। আমাদের এ প্রজন্ম জানতে পারবে তোমরা গুরুত্বহীন মরু পাহাড়। এ ধরনীকে তোমাদের বুকে প্রকৃতির গাছপালা, লতা, পাতা গুল্ম কিছুই দিতে পারোনি। তোমরা অভিশপ্ত। পাহাড়ে পরিবেশ খেকুদের অত্যাচারে লামার পাহাড় গুলো যে ন্যাড়া হয়েছে তখন এ কথা কেউ বলবেনা।
আমরা ব্যথিত, আমরা লজ্জিত। প্রকৃতি আমরা তোমাদের রক্ষা করতে পারলামনা।
গাছ কাটলে পরিবেশের উপর মারাত্মক ক্ষতি হয়, যেমন জীববৈচিত্র্য হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির ক্ষয়, এবং জলচক্র ব্যাহত হওয়া। গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে, তাই গাছ কাটা হলে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যায়, যা বিশ্ব উষ্ণায়নের অন্যতম কারণ। এছাড়া, গাছপালা কমে যাওয়ায় বন্যা, খরা, এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং অনেক পোকামাকড় ও প্রাণী তাদের আবাসস্থল হারায়।
বনভূমি ধ্বংসের ফলে পরিবেশের উপর কী কী প্রভাব পড়ে?
বনভূমি ধ্বংসের ফলে পরিবেশের ওপর অনেক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যেমন – জীববৈচিত্র্য হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন, মাটি ক্ষয়, বন্যা, এবং গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধি। বনভূমি ধ্বংসের ফলে জীবজন্তুদের আবাসস্থল নষ্ট হয় এবং তাদের বিলুপ্তি ঘটে, যার ফলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়। বন উজাড়ের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন বৃদ্ধি পায়, যা বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ হয়।
বনভূমি ধ্বংসের প্রধান প্রভাবসমূহ:
জীববৈচিত্র্য হ্রাস: বন্যপ্রাণী এবং উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ার কারণে অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায় বা বিলুপ্তির পথে চলে যায়।
জলবায়ু পরিবর্তন: গাছপালা কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বন উজাড়ের ফলে এই ক্ষমতা হ্রাস পায়, যা বিশ্ব উষ্ণায়ন বৃদ্ধি করে।
মাটি ক্ষয়: গাছের শিকড় মাটিকে ধরে রাখে। বন ধ্বংস হলে মাটি আলগা হয়ে যায় এবং সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, যা ভূমিধ্বস ও মরুকরণের কারণ হতে পারে।
বন্যা ও খরা: বনভূমি অতিরিক্ত জল ধরে রাখতে এবং ভূমিকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। বন ধ্বংসের ফলে বন্যা ও খরা দেখা দেয়।
বায়ুমণ্ডলে দূষণ বৃদ্ধি: গাছপালা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। বনভূমি ধ্বংসের ফলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বেড়ে যায়।
বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যহীনতা: বনভূমি ধ্বংসের ফলে বাস্তুসংস্থানের পরিবর্তন ঘটে এবং পরিবেশের সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হয়।
পাহাড় কেটে ধ্বংস করলে পরিবেশের নানা ক্ষতি হয়, যার মধ্যে প্রধান হলো ভূমিধস ও বন্যা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, মাটি ক্ষয়, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুতর সমস্যা। এছাড়া, পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয় এবং জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
পরিবেশগত প্রভাব:
ভূমিধস এবং বন্যা: পাহাড়ের ঢাল থেকে গাছপালা সরিয়ে ফেলা হলে এবং মাটি আলগা হয়ে গেলে, ভারী বৃষ্টিতে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে। এতে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
জীববৈচিত্র্য হ্রাস: পাহাড়ে বসবাসকারী অনেক বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল নষ্ট হয় এবং তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ে।
মাটি ক্ষয়: গাছপালা মাটিকে ধরে রাখে। পাহাড়ের গাছ কেটে ফেললে মাটি সহজে ক্ষয় হয়ে যায়, যা নদীর পানিকে পলিমাটি দিয়ে ভরাট করে দেয় এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে।
জলবায়ু পরিবর্তন: পাহাড়ের উপরকার বনভূমি জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ধ্বংস করলে স্থানীয় ও বৈশ্বিক জলবায়ুর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
জলাবদ্ধতা: পাহাড় থেকে বয়ে আসা পলি মাটি এবং বর্জ্য নালা-নর্দমা ও জলাশয় ভরাট করে দেয়, যার ফলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
[এস.কে খগেশপ্রতি চন্দ্র খোকন]
লামা- বান্দরবান। তারিখ-২৫ নভেম্বর,২০২৫